Posts

অরণ্য রহমানের কবিতা

Image
অরণ্য রহমান , জন্ম ১৯৭১ সালে মাণিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার গোলড়া গ্রামে ৷দৈনিক ইনকিলাবের নবাবগঞ্জস্থ মফস্বল সংবাদদাতা হিসাবে লেখালেখির জগতে পদার্পণ ৷ সাপ্তাহিক জীবনের আলো  সাপ্তাহিক সমতা , অনুক্ত সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকার   সাহিত্য বিভাগে বহু সংখ্যক   গল্প কবিতা প্রকাশিত হয় ৷ রিয়াদ ডেইলির বাংলা বিভাগের সাহিত্যের পাতার নিয়মিত লেখক ৷৷প্রকাশিত হয় তিনটি উপন্যাস ৷ ১৯৯১ সালে জীবন জিবিকার জন্য প্রবাসী ৷বর্তমানে রিয়াদের একটি লিমিটেড কোম্পানির ইলেক্ট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টে কর্মরত । আজ রইল কবির একগুচ্ছ কবিতা 1: "কতো কি যে সয়ে যাই" দুঃস্বপ্নের ধুঁয়াশায় রাতের কুহেলী , অনন্তে ডুবে থাকা থোকা  থোকা অগোছালো ইচ্ছে ৷ শেষ হয়েও অভুক্ত জেগে থাকে রাত , অলির গুঞ্জনে বিকশিত  হয়না কুঁড়ি ৷ এক সাগর কষ্টের  ঢেউ হঠাৎ আছড়ে পড়ে  মনের  অতলে ৷ জানালার গ্রিলে রাখা তোর নিঃসঙ্গ আলিঙ্গনের হাত করে দেয় একরাশ  উৎক্ষিপ্ত ভাবনা নেশাতুর ৷  কতোবার তোকে মনে করি , কতোবার  বেঁধে নেই আলিঙ্গনে ৷ কতোবার মরে মরে বাঁচি , শুধু আমার কাঁধের  দুই ফেরেস...

চিরঞ্জিৎ বৈরাগীর কবিতা

Image
জন্ম: ১৯৯১ সালের ১লা জুলাই, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা থানার অন্তর্গত, যাদবপুর গ্ৰামের এক মধ্যবিত্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম। বাবা: শংকর বৈরাগী (পেশায় ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ী)। মা: শান্তিলতা বৈরাগী(গৃহকর্মী)। দিদি: সোমা বৈরাগী(বিবাহিত)। শিক্ষা: গোবরডাঙ্গা হিন্দু কলেজ থেকে যথাক্রমে- বাংলা সাহিত্যে সাম্মানিক এম.এ (২০১৪) ও বি.এড (২০১৭) পাস। বর্তমানে বিভিন্ন (তপোবন,কাণ্ডারী,অঙ্কুর, প্রাঙ্গণ,কুসুম,নেট ফড়িং,ব্লাকহোল, মুক্তবীণা,বঙ্গময়ী,কবিগুরু,বিবর্তন, পোস্টম্যান,সূচনা ইত্যাদি) পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত আছেন। আজ রইল কবির নানান ধরনের  একগুচ্ছ কবিতা ১ : জীবনের চিলেকোঠা জীবনের বহুরূপী পথ নদীর মতো বাঁক নেয় যখন-তখন, হারানো সব স্মৃতি পথ আগলে বার বার তোলে গর্জন- চতুর্বিধ হাহাকার আর মনুষ্যত্বহীনতার আয়োজন; বর্বরতার হাতছানিতে পদে পদে বিপদের আহ্বান! জরাজীর্ণ সমাজে, ঘন ঘন ছিঁচকাঁদুনে মনের বিচরণ, অনাকাঙ্ক্ষিত চাওয়ার ছলনায় কাড়ছে বিবেক- জ্ঞান- স্বার্থের কারণে দূর স্রোতে হারায় আপন-স্বজন, চিরকালীন নিয়মে পড়ছে ভাটা, বাড়ছে দস্যু-দানবের পদচারণ; সর্বসুখের চাহিদায় ফাইব-জি গতিতে বাড়ছে ...

সেখ নুরুল হুদার কবিতা

Image
------------------------------ ------------------------           কবি সেখ নুরুল হুদার জন্ম ১১ জুন ১৯৭০ স্কুল রেজিস্টার অনুযায়ী। পিতা মরহুম সেখ ইসলাম আলি।  মাতা রহিমা খাতুন। পৈতৃক বাড়ি হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া থানার শ্রীরামপুর গ্রামের পীরতলায়। এখানেই তিনি বসবাস করেন।           কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেছেন বাংলায় এম এ            কবি সেখ নুরুল হুদা এক সময় বলিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে যথেষ্ট সুপরিচিত ছিলেন। সেই সঙ্গে হাওড়া জেলা প্রেস ক্লাবের অ্যাসিস্টেন্ড সেক্রেটারিও ছিলেন। বহু সংস্থায় সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার কাজ করে বর্তমানে তিনি রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মচারী।            সেই ১৯৮৮ সালে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত কবিতা থেকে আজও অব্দি তিনি লিখে চলেছেন। কখনও কবিতা, কখনও রিপোর্টিং, কখনও প্রবন্ধ, কখনও অল্প-সল্প গল্প, কখনও উপন্যাস  তাঁর কবিতার এবং জীবনের মূল সূর 'ভালোবাসা'। সেইসঙ্গে মিলে-মিশে থাকার সম্প্রীতির আহ্বান। ...

শোভন মন্ডলের কবিতা

Image
শোভন মণ্ডল এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কবি । জন্ম-  ২৫/১০/১৯৮০ শিক্ষাগত যোগ্যতা -  বি এস সি ( কেমিস্ট্রি) পেশা- সরকারী  কর্মচারী বাসস্থান -  গড়িয়া, কলকাতা প্রকাশিত লেখা-  দেশ, সানন্দা, কবিসম্মেলন, কবিতা পাক্ষিক, অনুষ্টুপ, অদ্বিতীয়া, গৃহশোভা, ক্লেদজকুসুম, একুশশতক, একদিন,কথাসাহিত্য, তথ্যকেন্দ্র, বসুমতী,  কৃত্তিবাস, কথাসাহিত্য, যুগশঙখ প্রভৃতি পত্রিকা বই-  ২টি  (চুম্বনে অচেনা ভাস্কর্য    ও  দরজার ওপারে...) সম্মান-  আত্মদ্রোহ সাহিত্য সম্মান। তাঁর কবিতায় পাঠক খুঁজে পাবেন হৃদয়ের আরাম এবং অনুভবের তীব্র দ্যুতি ।  কবিতার সহজ  ও  সুচারু ভঙ্গিমা তথা শব্দ চয়ন কবিতাকে ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে দেয় , ছড়িয়ে পড়ে আলো । আজ রইল কবির একগুচ্ছ কবিতা যা আলাদা করে তুলবে কবিকে। ১ : গোপন                 সোজা নেমে গেছে সিঁড়ি অনেক দূর জানিনা কতোটা ঘোরালো আদৌ সহজ কিনা খবর নিও, আপাতত সতর্কতা জারি সিঁড়ি ধাপে বসে এক পুরুষ একজন নারী                 ...

অনিমেষ সরকারের কবিতা

Image
অনিমেষ সরকার ডুয়ার্সের চালসায় থাকেন। । জন্ম ১৩ ই ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে । ঘুরতে ভালোবাসেন তরুণ এই কবি । সম্পাদনা করেন ডুয়ার্স web নামে একটি online magazine.   কবিতায় তাঁর মতো করে একটা ভাষা তৈরি করতে চাওয়া এই কবি খুঁজে চলেছেন অহরহ । আজ রইল কবির একগুচ্ছ কবিতা (১)  অস্থায়ী মোনালিসা-কে মন্থরতার ভেতর  সম্বিৎ  ফিরে                 আসে । এ কেমন কুয়াশাছন্ন মরীচিকা মঞ্চে কাপড় শুকোচ্ছেন কবি ! পায়ে পায়ে ক্ষণস্থায়ী হয়েছে ঈশ্বর ধুলো  চাইলে           -           ফিরে যাও! যেই দেয়ালে টিকটিকি ল্যাজ নাড়ে পাখায় স্থাবরতা ,                           "অসাধু হইতে সাবধান" ওরা বলে আয়না স্বচ্ছ নয় , ও কারো হতে পারে না। স্থিতিশীল হতে শিখে যাই এই ভ্রম শুধু আমার নয় মোনালিসা... (২) অস্থায়ী মোনালিসা-কে বাতকল ঘুরছে, শীতের পোশাক পরে অনন্ত মুহূর্তে; দর্পণে ধ্বংসস্তূপ ঘাটতে ঘাটতে মাঝখানে অপরা...

কার্তিক ঢকের কবিতা

Image
কার্তিক ঢক থাকেন বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে। পেশায় ক্ষৌরকার। প্রতিদিন তাঁর জীবন যুদ্ধ ।তবু কবিতার প্রতি দুরন্ত টান তাঁকে আবিষ্ট করে রাখে । তিনি কবিতাকে করতে চান সময়ের উপযোগী  বা সময় উত্তীর্ণ । তাঁকে নিয়ে লেখালিখি হয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকায় । তাঁর পেশার জায়গা ঠিক রেখে কবিতা চর্চা যে কত কঠিন  এবং সেই কঠিনের পরীক্ষায় কবি কার্তিক ঢক উত্তীর্ণ । তাই  বিষ্ণুপুরে তাঁর সেলুনটি হয়ে উঠেছে কবিদের মিলন ক্ষেত্র । কবিতা পাক্ষিক সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পত্রিকায় তিনি দীর্ঘদিন লিখে চলেছেন ।  আজ জিরো বাউন্ডারির একক উদযাপন বিভাগে থাকছে কবির একগুচ্ছ কবিতা যা তাঁর নিজস্ব ঘরানার । 1: প্রকৃতি কোমরের দ্রাঘিমায় আটকে আছে তীব্র রোদে পোড়া চশমার লেন্স- নাভিকুন্ডের পিচ্ছিল পথ বেয়ে নেমে যেতে চায় স্নানের ঘাটে... অপরাধ বোধ নেই কোনো- শরীরের অবগাহন শরীরই তো দিতে পারে। আমি তো পুরুষ আর তুমি, পরমা প্রকৃতি 2 : কাসুন্দি মিথুনলগ্নে আধ-খোলা চাঁদ দেখা দিলে নিউটন জেগে ওঠে,বিলম্বিত আইন্সটাইন ও... প্রেম-টেম ঝরা-পাতার কাসুন্দি রতি-গন্ধেই মোমাছির তান। বায়স্কোপ বায়স্কোপ খেলা আর নেই। ন্যাকু...

পৃথা চ্যাটার্জির কবিতা

Image
পৈত্রিক বাড়ি ছিল মুর্শিদাবাদে।পড়াশোনা লালবাগ/ বহরমপুরে । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মাস্টার্স ।  কবিতা পাক্ষিক সহ একাধিক পত্রিকায় ইতিমধ্যেই  তাঁর   লেখা প্রকাশিত হয়েছে । কাব্যের সহজতা  , সরলতাও বলা যেতে পারে  এবং সরাসরি প্রকাশ করা  - এই দুটো  কবি পৃথা চ্যাটার্জির লেখনীর বৈশিষ্ট্য । শব্দের সহজতার মধ্যে দিয়ে প্রবল অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে সক্ষম কবি। তাঁর লেখা পাঠককে অন্যমনস্ক করে তোলে অনুভূতির ঘোরে । সহজ অথচ বেশ তীব্র । প্রেম তাঁর কবিতার অন্যতম উপাদান । আজ রইল কবির একগুচ্ছ কবিতা । পাঠকের ভালো লাগবে আশা করি । 1:  বড্ড অদ্ভুত আবদার তোমাকেই  চাই। কীভাবে তা জানা নেই ,সঠিকভাবে জানতে চাই না।  অথচ পাওয়ার কী নিবিড় ইচ্ছে। ভালোবাসো ? উত্তরে স্পষ্ট বলেছিলে' জানো না'। নারী মানে নারীকে চাওয়া, ভালোবাসা আসে নি কখনো। তাহলে কী প্রেমহীন দেহ আর অযাচিত মন কী তীব্র ছিল সেই কথার দহন বিশাল হৃদয় ছিল বিঁধেছিল অনায়াসে বিষাক্ত তিরের ফলায় এখনও জীবন জুড়ে হৃদয়ক্ষরণ। 2: তোমাকে সত্যিই যদি ভালোবেসে ফেলি জীবনের নানা ছাঁদে বাঁধা সম্পর্ক সযত্নে ...